মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে চলমান যুদ্ধ এখন শেষের পথে এবং ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার শুরু করলেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিজে থেকেই খুলে যাবে। মঙ্গলবার 'নিউ ইয়র্ক পোস্ট'-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরান বর্তমানে বিপর্যস্ত এবং এই সংঘাত আর বেশিদিন স্থায়ী হবে না।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বেশ আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, আমরা সেখানে আর খুব বেশিদিন থাকছি না। আমরা বর্তমানে তাদের পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিচ্ছি। তবে, তাদের অবশিষ্ট যেটুকু আক্রমণাত্মক সক্ষমতা রয়েছে, তা নির্মূল করতে আমাদের আরও কিছুটা কাজ বাকি আছে। ট্রাম্পের মতে, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা কেড়ে নিয়েছি এবং সেখানে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) ঘটিয়েছি।
হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি সংকট: বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ট্রাম্পের অবস্থান বেশ কঠোর। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ালে পরিস্থিতি নিজে থেকেই স্বাভাবিক হবে। যারা এই জলপথ ব্যবহার করে, সেই দেশগুলোকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে তিনি যুক্তরাজ্যসহ জ্বালানি সংকটে পড়া দেশগুলোকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি লেখেন, যসব দেশ হরমুজ প্রণালীর কারণে জেট ফুয়েল পাচ্ছে না, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, যারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে আমাদের সাথে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো: এক, আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র) কাছ থেকে তেল কিনুন, আমাদের প্রচুর আছে। দুই, একটু সাহস সঞ্চয় করে নিজেরা প্রণালীতে যান এবং দখল নিন। আপনাদের নিজেদের জন্য লড়া শিখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র আর সাহায্য করবে না।
আলোচনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি: পাকিস্তানের মতো কোনো তৃতীয় দেশে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে আলোচনার জন্য পাঠানো হবে কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প কৌশলগত কারণে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমি আমার রণকৌশল এভাবে প্রকাশ করতে পারি না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পারমাণু আলোচনা ব্যর্থ হবার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে, যা মঙ্গলবার ৩২তম দিনে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরানও দুবাই, কুয়েত, আবুধাবি, কাতার এবং বাহরাইনের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এখন এই যুদ্ধের ময়দান থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।