ড্রোন আর মিসাইল হামলায় মধ্যপ্রাচ্যেজুড়ে সাইরেন

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন আর শুধু নীল নয়, বরং বারুদের কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। পারস্য উপসাগরের শান্ত জলরাশিও যেন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে। ইরান-মার্কিন সংঘাতের উত্তাপ এখন ছড়িয়ে পড়েছে কুয়েত, বাহরাইন এবং কাতার পর্যন্ত। একের পর এক ড্রোন হামলা আর মিসাইল গর্জন আরব দেশগুলোর ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও রয়েছে চরম আতঙ্কে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ। কারণ, ইরানের একের পর ড্রোন হামলা। কুয়েতের গর্বের বিমানবন্দর এখন যেন এক পরিত্যক্ত দুর্গ। আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরব ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এসেছে; তারা কুয়েতি যাত্রীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করেছে, যা মরুভূমি পাড়ি দিয়ে তাদের দাম্মাম ও কাইসুমাহ বিমানবন্দরে পৌঁছে দিচ্ছে।


শান্ত দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনে এখন ভয়ের রাজত্ব। দিন-রাত যখন-তখন বেজে উঠছে বিমান হামলার সতর্কবার্তা বা এয়ার রেড সাইরেন। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে বললেও সাইরেনের সেই তীক্ষ্ণ শব্দে রাজপথে লোক সমাগম শূন্য হয়ে যাচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের ছোটাছুটিই বলে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা একের পর এক ইরানি ড্রোন ও মিসাইল রুখে দিচ্ছে। সম্প্রতি আরও দুটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে রিয়াদ।


তবে কাতার উপকূলের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। দোহার উত্তরে বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ‘অজ্ঞাতপরিচয় প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন এজেন্সি জানিয়েছে, জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভাগ্যক্রমে ক্রু সদস্যরা অক্ষত আছেন এবং সমুদ্রে কোনো তেল নিঃসরণ হয়নি।

পুরো অঞ্চলটি এখন যেন একটি বারুদের স্তূপ। একদিকে কুয়েতের অচল বিমানবন্দর, অন্যদিকে বাহরাইনের আতঙ্কিত সাইরেন, সব মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোনগুলো কি কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-রয়াটার্স-বিবিসি