ইসরাইলের সামরিক ও শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বিশাল মাপের ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর আওতায় এটি ছিল ৯৪তম দফার আক্রমণ। শনিবার ভোরে ইসরাইলের গভীরে ভয়াবহ এই হামলা চালায় ইরান।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের ৯৪তম দফার এই হামলায় ইসরাইলের সামরিক-শিল্প কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ সেনাপ্রধানদের অবস্থানস্থলগুলোকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করছে, তাদের নিশানা ছিলো অন্য যে কোন দফার চেয়ে নিখুঁত।
বাহিনীটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেল আবিবসহ অধিকৃত অঞ্চলের দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তর অংশে একযোগে এই অপারেশন চালানো হয়। হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে ইরানের সর্বাধুনিক খোররামশাহর, খেইবার শেকান এবং এমাদ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সলিড ও লিকুইড ফুয়েলচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাশাপাশি ঝাঁকে ঝাঁকে বিস্ফোরক ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, দিমোনা (পারমাণবিক কেন্দ্র এলাকা), নেগেভ মরুভূমি, বীরশেবা এবং রামাত গনের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এই দফার প্রধান লক্ষ্য ছিল। আইআরজিসির দাবি, ইসরাইলের বহুল আলোচিত এবং ‘অজেয়’ দাবি করা মাল্টি-লেয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিবিধি রোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
এই অভিযানে ইরানের পাশাপাশি তাদের আঞ্চলিক মিত্ররাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ইয়েমেনি যোদ্ধারা দক্ষিণ ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরাকি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরাইলের ওপর অন্তত ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর ‘সন্ত্রাসবাদী’ যুদ্ধ শুরু করে। ওই দিন তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নির্বিচার বোমা হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী শাহাদাত বরণ করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই ইরান ও তার মিত্ররা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নজিরবিহীন প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইআরজিসি এই অভিযানকে ইসলামি বিশ্বের জন্য এক বিশাল বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, এই হামলা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গাজা, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাকের নির্যাতিত মানুষের রক্তের বদলা নিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও তীব্রতর করা হবে।
তথ্যসূত্র: ফারস নিউজ ও প্রেস টিভি