ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তাব কি তবে নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে? গত কয়েকদিন ধরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনকে সরাসরি ‘ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান আয়োজিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে তেহরান কখনোই পিছু হটেনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে আরাগচি বেশ কড়া সুরেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ যেতে আমরা কখনোই অস্বীকৃতি জানাইনি। আমাদের নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো যা ছড়াচ্ছে তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেও আরাগচি এক বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার চেয়েও ইরানের কাছে বড় বিষয় হলো, তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই ‘অবৈধ যুদ্ধ’ যেন চূড়ান্ত এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়। অর্থাৎ, নামকাওয়াস্তে কোনো যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী শান্তির গ্যারান্টি চায় তেহরান।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এবং পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকা দাবি করেছিল, ইরানের দিক থেকে সাড়া না পাওয়ায় শান্তি আলোচনার গতি থমকে গেছে। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে আসরে নামে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র তাহির আন্দ্রিবি এই রিপোর্টগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ব্রিফিংকে ভুলভাবে তুলে ধরে বিতর্কের জন্ম দেয়া হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই বিধ্বংসী যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান ও চীন একজোট হয়ে একটি ‘পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে কাজ করছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সম্প্রতি বেইজিং সফর করে আসার পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গেও এ নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। ইসলামাবাদ চাইছে বেইজিংয়ের প্রভাব খাটিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে বসাতে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পর এই যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। শনিবারও ইরানি পারমাণু কেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল হাব এবং সিমেন্ট কারখানায় জোরালো হামলা চালিয়েছে মার্কিন-ইসরাইলি জোট। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা আঘাত হেনে এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করে বিশ্ব অর্থনীতিতে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, ইসলামাবাদের এই ‘কূটনৈতিক ডিনার’-এ ওয়াশিংটন আর তেহরান শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে বসে কি না, নাকি যুদ্ধের বারুদ সব আশাকেই জ্বালিয়ে খাক করে দেয়। তবে আরাগচির এই মন্তব্য অন্তত এটুকুই বুঝিয়ে দিল, বল এখন হোয়াইট হাউসের কোর্টে।
তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস