ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক পাইলটের মায়ের আবেগঘন আবেদনের জবাবে এক নজিরবিহীন ও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তেহরান দাবি করেছে, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের চেয়ে ইরানি হেফাজতে থাকলেই ওই পাইলটরা বেশি নিরাপদ থাকবেন।
গত শুক্রবার ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হওয়ার পর এক পাইলটের মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার কাছে দোয়ার প্রার্থনা করেন। তিনি লেখেন, অনুগ্রহ করে ওই দুই পাইলটের জন্য প্রার্থনা করুন। আমার নিজের ছেলেও একজন ফাইটার পাইলট এবং এখন পর্যন্ত তার বা তার ইউনিটের কোনো খবর আমি পাইনি। আমার বুক উদ্বেগে ফেটে যাচ্ছে।
পাইলটের মায়ের এই উদ্বেগের জবাবে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিশানা করে লেখে, নিশ্চিত থাকুন, আপনার ছেলেরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যতটা বিপদে আছে, ইরানি হেফাজতে তার চেয়ে অনেক বেশি শান্তিতে থাকবে। বরং প্রার্থনা করুন যেন তারা মার্কিন উদ্ধারকারী দলের হাতে পড়ার আগে ইরানিদের হাতে ধরা পড়ে! মুসলিম এবং সভ্য জাতি হিসেবে আমরা জানি কীভাবে বন্দিদের মর্যাদা ও সম্মান দিতে হয়।
একই সুরে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসও একটি পোস্ট করে। সেখানে বলা হয়, তথাকথিত মানবিক আইন তৈরির বহু আগে থেকেই ইরানে যুদ্ধবন্দিদের অধিকার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আমরা আপনাদের ‘বর্বর’ মিত্র জায়নবাদীদের মতো বন্দিদের সঙ্গে আচরণ করি না। আমাদের একটি প্রাচীন সভ্যতা আছে, আমরা আমেরিকার মতো প্রস্তর যুগে বাস করি না।"
শুক্রবার ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর আঘাতে একটি স্ট্রাইক ঈগল এবং একটি থান্ডারবোল্ট আক্রান্ত হয়। ঈগল যুদ্ধবিমানের একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্তত একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, পাহাড়ি অঞ্চলে অন্তত একজন পাইলট প্যারাসুট নিয়ে অবতরণ করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় মার্কিন ড্রোন এবং হেলিকপ্টারগুলো চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
এই বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার পাশাপাশি ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে বাহরাইনে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে। ইসরাইলও তাদের ভূখণ্ডে ধেয়ে আসা ইরানি মিসাইল শনাক্ত করার খবর দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে ইরানের এই কূটনৈতিক বাদানুবাদ এবং সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করার ঘটনাটি চলমান সংঘাতকে আরও ভয়াবহ স্তরে নিয়ে যেতে পারে। নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করা এখন পেন্টাগনের জন্য যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি তেহরানের জন্য এটি একটি বড় রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যষূত্র: ইন্ডিয়া টুডে