ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং মার্কিন ‘উদ্ধার অভিযান’ নিয়ে ওয়াশিংটনকে ধুয়ে দিলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে প্রচার করছেন, ঠিক তখনই সমাজ মাধ্যম এক্সে এক তির্যক পোস্টের মাধ্যমে সেই দাবিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন কলিবাফ।
রোববার কালিবাফ একটি বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি অত্যন্ত রসাল ও বিদ্রূপাত্মক ঢঙে লিখেন, আমেরিকা যদি এভাবে আরও তিনটি ‘বিজয়’ অর্জন করে, তবে দেশটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে! তার এই মন্তব্যে পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে, উদ্ধার অভিযানের নামে যুক্তরাষ্ট্র আসলে তাদের দামী সামরিক আকাশযান ও সরঞ্জাম খুইয়ে চরম পরাজয়ের শিকার হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেন যে, ইরানে ভূপাতিত হওয়া স্ট্রাইক ইগলের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকেও এক ‘বিস্ময়কর’ অপারেশনের মাধ্যমে উদ্ধার করেছেন। যদিও এই অভিযানের বিস্তারিত এখনো ধোঁয়াশাচ্ছন্ন, তেহরান ইতিমধ্যে দাবি করেছে, তারা ইসফাহানে উদ্ধারকারী দলের বেশ কয়েকটি ‘শত্রু বিমান’ ধ্বংস করেছে। ইরান এই উদ্ধার অভিযান সফল হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
কালিবাফের এই ‘সসি’ বা মশলাদার মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। তিনি মূলত ঐতিহাসিক ‘পিরিক ভিক্টরি’ বা এমন এক জয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে জেতার চেয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই বেশি। ইরানের দাবি যদি সত্য হয়, যেখানে সি-১৩০ বিমান ও ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংসের কথা বলা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের উদ্ধার অভিযান পেন্টাগনের জন্য এক বিশাল সামরিক বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ওয়াশিংটন কি আসলেই তাদের সেনাকে উদ্ধার করতে পেরেছে, নাকি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর মুখরক্ষার জন্য ‘বিজয়’ শব্দটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে? কলিবাফের ভাষায়, আমেরিকার এই ‘জয়’ আসলে তাদের পতনেরই নামান্তর।
তথ্যসূত্র: ফারস টিভি