ইরানিদের রেলযাত্রা এড়িয়ে চলতে বললো ইসরাইলি বাহিনী

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সরাসরি ইরানের সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি জরুরি সতর্কতা জারি করে মঙ্গলবার সারাদেশে ট্রেন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সোমবার ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলো বিধ্বস্ত করার দাবি করেছে ইসরাইল। খবর বিবিসি।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের ফার্সি ভাষার সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ইরানি জনগণকে উদ্দেশ্য করে এক সতর্ক বার্তায় বলেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার ইরান সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ট্রেন ব্যবহার বা ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। আইডিএফের সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ট্রেনের ভেতরে বা রেলপথের কাছাকাছি অবস্থান করাও এখন জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।


এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল) মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত না করে, তবে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হবে। তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, এক রাতেই ইরান ধ্বংস করা হবে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, সোমবার তারা ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজে অবস্থিত একটি তৃতীয় পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে সফল হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ’র দাবি অনুযায়ী, এই কারখানায় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় 'নাইট্রিক অ্যাসিড' উৎপাদন করা হতো।

এর আগে সোমবার আরও দুটি বড় স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরাইল। এর মধ্যে একটি হলো দক্ষিণ ইরানের আসালুয়েহতে অবস্থিত 'সাউথ পার্স' পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট এবং অন্যটি ফার্স প্রদেশের 'মারভদাশত' পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। ইসরাইলের দাবি, তেহরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই এই কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।


রাতারাতি চালানো এই বিমান হামলাগুলোতে তেহরানের বেশ কিছু সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। এই অভিযানে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোঁড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

সব মিলিয়ে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার এই সরাসরি সংঘাত এখন এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। মার্কিন আল্টিমেটাম এবং ইসরায়েলের ক্রমাগত বিমান হামলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে বুধবারের সেই ডেডলাইনের দিকে, যা নির্ধারণ করতে পারে এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ।