ট্রাম্পের হুঙ্কার আর হুমকি ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন প্রলাপ: ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আল্টিমেটাম এবং ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের খতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাকারি এক ভিডিও বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই হুঙ্কারকে ‘ভ্রান্ত’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই ধরণের হুমকি দিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার যে শোচনীয় পরাজয় ও অবমাননা হয়েছে, তা ঢাকা দেওয়া সম্ভব নয়।

ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও মরিয়া অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইস্টার্ন টাইম রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে শর্ত মেনে চুক্তি করার চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।


ইরানের সামরিক মুখপাত্র এই হুমকিকে মার্কিন প্রশাসনের ‘অচলাবস্থা’ ও ‘হতাশার’ লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, উদ্ধত ও ভিত্তিহীন এই হুমকিগুলো একজন বিভ্রান্ত প্রেসিডেন্টের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়, যা তাদের ক্রমাগত সামরিক পরাজয় আড়াল করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ হামলা: মুখপাত্র জোলফাকারি গত ৩৮ দিনের যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়ে জানান, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ‘আল-আদাইরি’ ঘাঁটিতে ইরান সফলভাবে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ইসফাহান প্রদেশে একটি ব্যর্থ মার্কিন-ইসরাইলি অভিযানে এই ঘাঁটিটি মূল ভূমিকা পালন করেছিল। তারই পাল্টা হিসাবে ঘাঁটিটি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

হামলায় মার্কিন বাহিনীর হেলিকপ্টার স্টোরেজ এবং সেনাদের আবাসনস্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, গত ৩ এপ্রিল ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল ইরান। পরবর্তীতে সেই পাইলটদের উদ্ধারে আসা আরও দুটি সি-১৩০ কার্গো বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরান ধ্বংস করেছে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব ও হরমুজ প্রণালী: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অঘোষিত যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী পথ ‘হোরমুজ প্রণালী’ ইরান কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমেরিকায় গ্যাসের দাম এক মাসেই ৩৪ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে অনেক দেশে জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা, ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদের জন্য এই কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীটি বন্ধই থাকবে। আর কখনই আগে অবস্থায় ফিরবে না।


অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪ এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত:
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের পাল্টা অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’। এর আওতায় এ পর্যন্ত শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক মিসাইল এবং ড্রোন দিয়ে এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে প্রায় ১০০ বার হামলা চালানো হয়েছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে যে, আমেরিকার প্রতিটি পদক্ষেপের বিপরীতে তাদের আরও বড় পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। ট্রাম্পের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করে তেহরান জানিয়েছে, যেকোনো হামলার কঠোর ও সমতুল্য জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।