সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা হারিয়েছেন মোজতাবা খামেনি!

ইরানের ক্ষমতার অলিন্দে এখন এক অদ্ভুত ও রহস্যময় নাটক চলছে। একদিকে যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনিকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা বর্তমানে ‘অজ্ঞান’ বা অচৈতন্য অবস্থায় রয়েছেন এবং কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছেন। অথচ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তাঁকে ‘সুস্থ ও কর্মক্ষম’ দেখানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধের শুরুতেই ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিমান হামলায় নিহত হন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। সেই একই হামলায় মোজতাবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে ইরান স্বীকার করেছিল। ‘দ্য টাইমস’-এর এক কূটনৈতিক মেমো অনুযায়ী, মোজতাবা বর্তমানে পবিত্র শহর কোয়মের একটি গোপন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ‘সংকটজনক’ এবং তিনি বর্তমানে কোমায় রয়েছেন বলে মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোজতাবা সশরীরে জনসমক্ষে উপস্থিত হননি, এমনকি তাঁর কোনো অডিও বার্তাও প্রচার করা হয়নি।

ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা দেশ পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এই দাবিকে জোরালো করতে সোমবার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে মোজতাবাকে একটি ‘ওয়ার রুমে’ বসে ইসরাইলের ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। আসল মোজতাবা হয়তো হাসপাতালের শয্যায় জীবনের শেষ লড়াই লড়ছেন। কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তাঁর পা ভেঙে গেছে এবং মুখে গুরুতর জখম রয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, কোয়ম শহরে সাবেক নেতা আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেখানে একটি বিশাল মাজার বা সমাধি সৌধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, সেখানে ‘একাধিক কবরের’ জায়গা রাখা হচ্ছে। জল্পনা ছড়িয়েছে, মোজতাবা খামেনির অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক যে তাঁকেও হয়তো অচিরেই বাবার পাশে সমাহিত করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।

যদি মোজতাবা সত্যিই অচৈতন্য থাকেন, তবে ইরানের বর্তমান যুদ্ধের সিদ্ধান্তগুলো আসলে কারা নিচ্ছেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকি, অন্যদিকে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই অচল অবস্থা ইরানকে এক চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ওয়াশিংটন বা তেহরান—কেউই এখন পর্যন্ত এই গোপন মেমোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সব মিলিয়ে, পারস্য উপসাগরের তীরে এখন বারুদের গন্ধের চেয়েও ঘনীভূত হয়ে উঠেছে নেতৃত্বের এই কুয়াশা।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি