লেবানন ও ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির জোর তৎপরতায় পাকিস্তান

বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনার আগে সেখানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তবে এই বৈঠকের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে লেবানন ও ইয়েমেনে চলমান সংঘাত থামানোর ওপর। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে, শুধু ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনই যথেষ্ট নয়, বরং লেবানন ও ইয়েমেনের যুদ্ধবিরতিকেও এই আলোচনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে।

নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ: উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে লকডাউন জারি করা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা যে অভিজাত 'সেরেনা হোটেলে' অবস্থান করবেন, তার চারপাশের তিন কিলোমিটার এলাকা সিলগালা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হোটেলটি বর্তমানে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে এবং সাধারণ অতিথিদের রবিবার পর্যন্ত হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


লেবাননে ইসরাইলি তাণ্ডব ও যুদ্ধবিরতির সংকট:
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, লেবাননে ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলায় তা এখন খাদের কিনারায়। গত বুধবারের হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়ে গেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে কোনো শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়। হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের ভাগ্নেসহ শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরাইলের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের বারুদ যেন আরও উসকে দিয়েছে।

লেবাননের পরিস্থিতি এখন বর্ণনাতীত। ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষের ছিন্নভিন্ন দেহাংশ উদ্ধারের কাজ চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উদ্ধারকর্মী জানান, পুরো শরীর অক্ষত পাওয়া এখন বিরল ঘটনা, আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধু দেহাংশ সংগ্রহ করছি।"


বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা, তেলের দামে রেকর্ড:
হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, আর বিমান জ্বালানির দাম ছাড়িয়েছে অতীতের সব রেকর্ড। এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটাতেও ইসলামাবাদের বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও আঞ্চলিক শান্তি: পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা শুধু লেবানন নয়, ইয়েমেনে ইসরাইলি হামলার বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে তুলবে। ইসরায়েল যদিও দাবি করছে যে তাদের এসব অভিযান এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়, কিন্তু ইরান ও হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণ পরিস্থিতিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে:
শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠকে পাকিস্তান কি পারবে একটি স্থায়ী সমাধান বের করতে? একদিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আর অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, এই দুই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা। পাকিস্তান যদি সফলভাবে লেবানন ও ইয়েমেনের জন্য একটি সম্মানজনক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পারে, তবেই হয়তো এই অঞ্চলের সংঘাত স্থায়ীভাবে থামার আশা দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র: পাকিস্তান অবজারভার