অল্প সময়েই সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে সক্ষম ইরান

সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান তার ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো মেরামত করে পুনরায় হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে লড়াইয়ে বিরতি চললেও, এই সময়ের মধ্যেই তেহরান তার সামরিক শক্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান মাটির নিচে পুঁতে রাখা বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া লঞ্চারগুলো উদ্ধার করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে সক্ষম। আর, ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কান জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র গুদামগুলোর প্রবেশপথ মেরামতের জন্য ইরান ইতোমধ্যেই বুলডোজার মোতায়েন করেছে।


একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার মতে, ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয় নয় এবং তেহরান যদি কোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে না আসে, তবে ইসরাইলি বাহিনীকে আবারও অভিযানে নামতে হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শিল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং দেশটির ড্রোন মজুদের অর্ধেকই ধ্বংস হয়েছে। তবুও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের কাছে এখনও হাজার হাজার মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ আছে।


হরমুজ প্রণালী বা পারস্য উপসাগরে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করার মতো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ছোট ভাণ্ডার তাদের কাছে রয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট হলেও, ইরান ড্রোন ও অন্যান্য সমরাস্ত্রের জন্য রাশিয়া ও চীনের ওপর নির্ভর করতে পারে।

সিএনএন-এর একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তেহরানের ওপর এই যুদ্ধবিরতি চলার সময় চীন ইরানকে 'ম্যানপ্যাড' বা কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, অস্ত্রের উৎস গোপন করতে চীন এই চালানগুলো তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যদিও ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।


হরমুজ প্রণালীর মাইন রহস্য

নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চাইলেও এখনই হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দিতে পারছে না। এর মূল কারণ হলো, যুদ্ধের সময় তারা এই জলপথে যেভাবে মাইন পেতে রেখেছিল, সেগুলোর সঠিক অবস্থান তারা এখন আর খুঁজে পাচ্ছে না।

অনেক মাইন স্রোতের কারণে ভেসে অন্যত্র চলে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রণালী খুলে দেওয়ার শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও, বর্তমানে ইরান বা আমেরিকা, কারোরই সমুদ্রের নিচ থেকে এই মাইনগুলো সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করার পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নেই।


সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধবিরতির এই সময়টি তেহরান তাদের সামরিক অবকাঠামো মেরামতের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য পরোক্ষ শান্তি আলোচনার ফলাফল কী হয়, তার ওপরই এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্ভর করছে।