মার্কিন অবরোধের মুখে পিছু হটলো চীনা ট্যাঙ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের মুখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পারস্য উপসাগর। মঙ্গলবার অনেকটা দাপটের সাথে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে বেরিয়ে গেলেও, বুধবার শেষ রক্ষা হলো না বিতর্কিত চীনা ট্যাঙ্কার 'রিচ স্টারি'র। মার্কিন অবরোধের জাল ছিঁড়ে ইরানি বন্দরে ভিড়তে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ মাথা নিচু করে মাঝ দরিয়ায় নোঙর ফেলতে বাধ্য হয়েছে জাহাজটি। পেন্টাগন ও শিপিং ডেটার বরাত দিয়ে পাওয়া এই খবর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

রোববার ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, বুধবার তার প্রতিফলন দেখা গেছে সমুদ্রের নীল জলরাশিতে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সগর্বে ঘোষণা করেছে, অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই তাদের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি।


ওমান উপসাগরে অন্তত দুটি তেল ট্যাঙ্কারকে ধাওয়া করে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার। ছয়টি জাহাজকে একপ্রকার বাধ্য করা হয়েছে ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে। রণক্ষেত্রের এই নাটকীয়তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তেল কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন 'রিচ স্টারি'। আড়াই লাখ ব্যারেল মিথানল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যাত্রা করা এই জাহাজটি মঙ্গলবার সবার নজর কেড়েছিল। কিন্তু বুধবারের চিত্র ছিল ভিন্ন; মার্কিন নৌশক্তির কড়াকড়িতে এটি এখন ইরানের উপকূলে স্রেফ ভাসমান অবস্থায় দিন গুনছে। এদিকে তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ইরানও বসে নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির হাতে প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল মজুত করার ক্ষমতা রয়েছে, যা দিয়ে রপ্তানি বন্ধ থাকলেও অন্তত দুই মাস বর্তমান উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব।


অবরোধের এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু জাহাজ অবশ্য কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বিশাল আকৃতির 'অ্যালিসিয়া' এবং মাল্টার পতাকাবাহী 'আজিওস ফানুরিওস ১' বুধবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরে প্রবেশ করেছে। তবে এদের গন্তব্য ইরান নয়, বরং ইরাকের বন্দর। এরা মূলত ইরাকি তেল নিয়ে ভিয়েতনামের দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করত, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজের উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে পরিস্থিতি কতটা থমথমে। একদিকে মার্কিন হুঙ্কার, অন্যদিকে ইরানের তেলের মজুত, সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগর এখন এক বারুদের স্তূপ, যেখানে যে কোনো মুহূর্তে বড় কোনো বিস্ফোরণের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স