হরমুজ খুলে দেয়ায় শি আমাকে জড়িয়ে ধরবে: ট্রাম্প

বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী নিয়ে এবার এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি জানান, হরমুজ স্থায়ীভাবে উম্মুক্ত করে দেয়ায় চীন অত্যন্ত খুশি। ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপ তিনি শুধু চীন নয়, বরং পুরো বিশ্বের স্বার্থেই নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন সংকটের পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, চীন এখন থেকে ইরানকে কোনো প্রকার অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। এমনকি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন সফরের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লেখেন, আমি যখন সেখানে পৌঁছাব, প্রেসিডেন্ট শি আমাকে একটি বড় ও উষ্ণ আলিঙ্গন দেবেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমঝোতা হয়ে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার থেকে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রথম পূর্ণ দিবস শুরু হলেও সমুদ্রপথের চিত্রে তার প্রভাব ছিল সামান্য। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কড়াকড়ি সত্ত্বেও অন্তত আটটি জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি নিয়ন্ত্রণে রাখার মার্কিন চেষ্টা প্রথম দিনেই বড় কোনো বাধার সৃষ্টি করতে পারেনি।

এদিকে আমেরিকার এই 'অবৈধ' অবরোধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। বুধবার সকালে ইরানের সামরিক বাহিনী আমেরিকাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি এই অবরোধ অব্যাহত থাকে, তবে তেহরান পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে কোনো প্রকার আমদানি বা রপ্তানি চলতে দেবে না। ইরানের এই হুঁশিয়ারি পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একদিকে ট্রাম্পের সমঝোতার দাবি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা যুদ্ধের হুমকি, সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী এখন এক জটিল সমীকরণের মুখে। যদি ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী চীন সত্যিই ইরানকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করে এবং প্রণালিটি উম্মুক্ত থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি বড় এক সংকট থেকে রক্ষা পেতে পারে। তবে তেহরানের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই ও আল জাজিরা