ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান স্নায়ুযুদ্ধ এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, কোন যুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাধীন জাতির অধিকার কেড়ে নিতে চায়।
রোববার এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ট্রাম্প বলছেন ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না, কিন্তু তিনি এটা বলছেন না যে, আমাদের অপরাধটা কী? একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে, যে একটি জাতির অধিকার হরণ করতে চান? তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে রাজি হয়েছে।
তবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। বাঘাই অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই এটি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গবেষণামূলক কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সাথে পারমাণবিক চুক্তিতে সই করে ইরান তাদের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছিল বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য তেহরানের নেই।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানের অনড় অবস্থান- সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই পারমাণবিক বিতর্ক বিশ্ব রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে, অন্যদিকে ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবে দেখছে।
তথ্যসূত্র: ফারস নিউজ