ইরানকে আলোচনায় ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টায় পাকিস্তান

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও তার দলবল ইসলামাবাদের পথে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। আট সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা বুধবারের সময়সীমার আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইলেও গত ৪৮ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ ইসলামাবাদের শান্তি প্রচেষ্টায় সংশয়ের ছায়া ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যা (মধ্যপ্রাচ্যে বৃহস্পতিবার ভোর) নাগাদ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা পর্দার আড়ালে তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করলেও ইরান প্রকাশ্যে বলছে, আলোচনার টেবিলে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।


এর মধ্যেই গত তিন দিনে অন্তত নয়টি মার্কিন বিমান ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে, যা ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কর্মী নিয়ে এসেছে। ভ্যান্সের সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। তবে ইরানি প্রতিনিধি দল না এলে তারা কার সঙ্গে বৈঠক করবেন, তা এখনো অস্পষ্ট।

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোকাদ্দাম জেন অস্টেনের বিখ্যাত উপন্যাসের উদ্ধৃতি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, এটি একটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য যে, কোনো মহান সভ্যতার অধিকারী দেশ হুমকি ও বলপ্রয়োগের মুখে আলোচনায় বসে না।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আরও কঠোর সুরে বলেছেন, ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে ‘নতি স্বীকারের টেবিলে’ পরিণত করতে চাইছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা মানব না; গত দুই সপ্তাহে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন চাল চালার প্রস্তুতি নিয়েছি।

গত রোববার ওমান উপসাগরে ইরানি জাহাজ ‘তুসকা’ জব্দের পর মঙ্গলবার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ‘এমটি টিফানি’ নামে দ্বিতীয় একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। ইরান একে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে। তবে, বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা জাহাজের ক্রু সদস্যদের মুক্তি দেয়, তবে সেটি ইরানের অবস্থান নরম করার একটি সুযোগ হতে পারে।


বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করছে, যতক্ষণ না মার্কিন নৌ-অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হচ্ছে, ততক্ষণ আলোচনায় ফেরা উচিত নয়।

এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় ভারতীয় জাহাজে ইরানি বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনাটি কূটনৈতিক দলের ওপর আইআরজিসি’র আধিপত্যেরই ইঙ্গিত দেয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং বর্তমান মজুদ সমর্পণ করতে হবে। অন্যথায় ইরানকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি। ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মাত্র ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত করেছেন এবং এরপর আর সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা