কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী থেকে দুটি জাহাজ জব্দ করে সেগুলোকে ইরানের উপকূলে নিয়ে গেছে আইআরজিসি । ইরানি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জাহাজে গুলিবর্ষণ ও জব্দের খবর নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার সকালে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং ‘এপামিনন্ডাস’ নামক দুটি জাহাজকে আটক করা হয়। আইআরজিসির দাবি, জাহাজ দুটি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই চলাচল করছিল এবং নেভিগেশন সিস্টেম বা দিকনির্ণয় যন্ত্রে কারচুপি করে গোপনে প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিলো। বর্তমানে জাহাজ দুটিকে পরিদর্শনের জন্য ইরানের উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমানের উত্তর-পূর্বে গ্রিক মালিকানাধীন একটি কন্টেইনার জাহাজে আইআরজিসির একটি গানবোট থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে জাহাজটির 'ব্রিজ' বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ‘ইউফোরিয়া’ নামক আরব আমিরাত ভিত্তিক আরেকটি জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে এর ক্রুরা বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘নূর নিউজ’ জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজগুলো ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর দেওয়া রেডিও সতর্কতা উপেক্ষা করেছিল। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, জব্দ জাহাজগুলোর মধ্যে একটি জায়নবাদী ইসরাইলের সাথে সংশ্লিষ্ট।
বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের ঘোষিত নিয়ম ভঙ্গ করলে বা নিরাপদ নৌ-চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে আইআরজিসি কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
এই ঘটনার পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও গ্রিক জাহাজটি বর্তমানে অচল অবস্থায় ইরানি উপকূলে পড়ে আছে, তবুও এই অভিযানের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, কারণ এই জলপথটি বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী।
যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইরানের এই পদক্ষেপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে সতর্কতা ছাড়াই জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে জাহাজগুলোর নথিপত্র এবং পণ্য যাচাইয়ের কাজ চালাচ্ছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ-সিএনএন-বিবিসি