হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে প্রথমবারের মতো টোল বা মাশুল আদায় শুরু করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজিবাবাই নিশ্চিত করেছেন, এই খাত থেকে অর্জিত প্রথম রাজস্ব ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।
গত মাসেই ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটি এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর মাশুল আরোপের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করে।
মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ কঠোর করতে শুরু করে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরটি আমেরিকা, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ ছাড়া সবার জন্যই উন্মুক্ত। তবে এই 'উন্মুক্ত' যাতায়াত এখন আর বিনামূল্যে থাকছে না।
সিএনএন’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব জাহাজ এই নতুন প্রোটোকল মেনে দ্রুত মাশুল পরিশোধ করবে, তাদের চলাচলের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা সেবার খরচ যারা দ্রুত মেটাবে, তাদের আগে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, যারা এই ফি দিতে অস্বীকৃতি জানাবে বা দেরি করবে, তাদের পারাপারের সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। ইরানের দাবি, এই বিশাল নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের যে ব্যয় হয়, তার দায়ভার ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকেই নিতে হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি এবং বর্তমানে টোল আরোপের ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই উত্তেজনা বজায় থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
বর্তমানে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং মাঝসমুদ্রে জাহাজ জব্দ করার মতো ঘটনার কারণে এই নৌপথ দিয়ে যাতায়াতের হার অনেকটাই কমে গেছে। ইরান একে তাদের নিজস্ব ‘নতুন শৃঙ্খলা’ হিসেবে বর্ণনা করছে, যেখানে নৌপথ ব্যবহারের বিনিময়ে রাজস্ব আদায়কে তারা নিজেদের আইনগত অধিকার বলে মনে করে। তেহরানের এই অনড় অবস্থান এবং টোল আদায় প্রক্রিয়ার সূচনা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
সূত্র: ফারস নিউজ