ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার তোড়জোড় চললেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার বরফ এখনো গলেনি। একদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দল আলোচনার আশায় পাকিস্তানের পথে রওনা দিচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান সোজা জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি কোনো বৈঠকে বসছে না তারা।
যুদ্ধের ৯ সপ্তাহে এসে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু কয়েক হাজার প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার মার্কিন সময় শনিবার সকালে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবার কথা রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সাথে আলোচনা করা।
তবে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই। তেহরানের যাবতীয় দাবি ও উদ্বেগ মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমেই জানানো হবে। ওয়াশিংটন আশা করছে ইরান একটি 'ভালো চুক্তি'র পথে আসবে, যার প্রধান শর্ত হবে গ্রহণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করা।
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পর শনিবার থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের মদিনা, মাস্কাট এবং ইস্তাম্বুলের উদ্দেশ্যে প্রথম যাত্রীরা রওনা হয়েছেন।
তবে আকাশপথ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সমুদ্রপথ বা হরমুজ প্রণালীর চিত্র একেবারেই ভিন্ন। যুদ্ধের আগে এই পথে দৈনিক গড়ে ১৩০টি জাহাজ চলাচল করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫টি জাহাজ পার হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
যুদ্ধের ময়দানেও উত্তেজনা কম নয়। ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ নেই। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া তাদের আলোচনার অন্যতম পূর্বশর্ত।
এদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আমেরিকার 'সম্মানজনক প্রস্থান' বা মান বাঁচানোর পথ খুঁজছে, কারণ তারা ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরফান কিয়ানি নামে একজনকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান, যাকে তেহরান মোসাদের 'ভাড়টে গুণ্ডা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান সম্ভবত মার্কিন চাহিদা পূরণে একটি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে, তবে সেই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু এখনো স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের পক্ষ থেকে কিছু অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছে। এমনকি প্রয়োজনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পাকিস্তানে যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ইসলামাবাদের এই পরোক্ষ আলোচনা যুদ্ধের দামামা থামিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স