যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ ও হুমকির মুখে ইরান কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক আলোচনায় বসবে না বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে তিনি ওয়াশিংটনের বৈরী আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন এবং জানান, মার্কিন কর্মকাণ্ড তেহরানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি ইরানি জনগণ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অবিশ্বাসের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, একদিকে রাজনৈতিক সমাধানের দাবি করা, আর অন্যদিকে নৌ-অবরোধের মতো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। তাঁর মতে, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দরগুলো থেকে অবরোধ সরিয়ে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা শাহাদাত বরণ করেন। এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ১০০ দফার বেশি মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়।
গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসলামাবাদে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়। সেখানে ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানে একটি ১০ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে।
যদিও ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে নিবিড় আলোচনা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে তেহরান এখনো এতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেছেন, চাপ, হুমকি বা অবরোধের মুখে ইরান কখনোই আরোপিত কোনো সংলাপে লিপ্ত হবে না। কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মাঠ পর্যায়ের প্রতিবন্ধকতাগুলো আগে দূর করতে হবে। তাঁর এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের অনমনীয় কূটনীতিরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
সূত্র: ফারস নিউজ