ওয়াশিংটনের সঙ্গে দফরফায় তেহরানের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ৫৯তম দিনে এসে কূটনৈতিক তৎপরতা এক নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদ সফর বাতিল এবং ওয়াশিংটনে একটি ডিনার অনুষ্ঠানে গোলাগুলির ঘটনার মধ্যেই তেহরান তার মিত্র ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা জোরদার করেছে।

সোমবার সকালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, যেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


রাশিয়া সফরের আগে আরাগচি পাকিস্তান ও ওমান সফর করেছেন। ইসলামাবাদে তাঁর আলোচনাকে তিনি 'অত্যন্ত ফলপ্রসূ' বলে বর্ণনা করেছেন। সেখানে মূলত কোন শর্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে, তা নিয়ে রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চলছে।

আল জাজিরার তথ্যমতে, শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোকেও এই শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ করার একটি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। তবে, ভিয়েনায় নিযুক্ত রুশ দূত মিখাইল উলিয়ানভ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ‘ব্ল্যাকমেলিং’ এবং ‘আল্টিমেটাম’ দেয়ার নীতি ত্যাগ করতে হবে।


ট্রাম্পের অবস্থান ও পরমাণু ইস্যু:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী, তবে তাঁর প্রধান শর্ত হলো ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ওয়াশিংটনের একটি অনুষ্ঠানে গোলাগুলির ঘটনার পর ট্রাম্প দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, এই ধরনের ঘটনা তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান চাইলে সরাসরি ফোন করে আলোচনার টেবিলে আসতে পারে।

হরমুজ প্রণালী ও সামরিক কৌশল: শান্তি আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও মাঠের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি অন্যতম কৌশল। অন্যদিকে, ওমানের সঙ্গে ইরান বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে যাতে এই পথে নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখা যায়।


লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা তীব্রতর হয়েছে। রোববার এক দিনেই দুই নারী ও দুই শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহর দাবি, তাদের পাল্টা হামলাগুলো ছিল মূলত ইসরায়েলের অব্যাহত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি ‘বৈধ জবাব’। সোমবার ভোরেও দক্ষিণ লেবাননের কাফরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সার্বিকভাবে, যুদ্ধের ৫৯তম দিনে একদিকে যখন ধ্বংসলীলা চলছে, অন্যদিকে পাকিস্তান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছে তেহরান। তবে, পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।