হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও আমেরিকার কঠোর অবরোধ জারি থাকলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও রাশিয়ার শীর্ষ ধনী আলেক্সেই মর্দাসোভের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল সুপারইয়ট সেই পথ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। ‘নর্ড’ নামের ৪৬৫ ফুট দীর্ঘ এই প্রমোদতরিটি গত শুক্রবার রাতে দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করে এবং রোববার সকালে ওমানের রাজধানী মাস্কাটের আল মৌজ মেরিনায় পৌঁছায়।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার কারণে এই নৌপথটি কার্যত স্থবির হয়ে আছে এবং সাধারণ বেসরকারি জাহাজগুলো এই এলাকা এড়িয়ে চলছে।
এমন পরিস্থিতিতে মর্দাসোভের ইয়টটি কোনো বাধা ছাড়াই প্রণালীটি অতিক্রম করাকে ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের এই ইয়টটিতে সুইমিং পুল, সাবমেরিন এবং হেলিপ্যাডসহ সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
ইয়টটির এই নিরাপদ যাতায়াত এমন এক সময়ে ঘটল যখন তেহরান ও মস্কোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুতিন মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানি জনগণের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। আরাগচিও রাশিয়ার সঙ্গে এই সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করে মস্কোর সংহতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মর্দাসোভ রাশিয়ার বৃহত্তম ইস্পাত ও খনি কোম্পানি ‘সেভারস্টাল’-এর চেয়ারম্যান এবং ফোর্বসের তথ্যমতে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যদিও ইয়টটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত, তবুও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এটি বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। এর আগে হংকং এবং মালদ্বীপও পশ্চিমা দেশগুলোর অনুরোধ সত্ত্বেও ইয়টটি আটকে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে থাকলেও ইরান এই মুহূর্তে রাশিয়ার সঙ্গে তার কৌশলগত সম্পর্ক দৃঢ় করতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ‘নর্ড’ যখন হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছিল, তখন মর্দাসোভ নিজে সেটিতে অবস্থান করছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি