আবারও অনিশ্চিয়তায় ওয়াশিংটন তেহরান শান্তি আলোচনা

ইরানের পক্ষ থেকে পেশ করা সবশেষ শান্তি প্রস্তাব নিয়ে তীব্র অসন্তুোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার, হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ট্রাম্পের এই মনোভাবের কথা প্রকাশ পায়, যা দুই মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসানে সৃষ্ট ক্ষীণ আশার ওপর নতুন করে কালো মেঘের ছায়া ফেলেছে। এই যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

ইরানের দেয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধ এবং পারস্য উপসাগরে নৌ-চলাচল সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করা যাবে না। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব মানার সম্ভাবনা খুবই কম।


ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যে কোনো আলোচনার শুরুতেই পরমাণু ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো সমঝোতা করবে না এবং তাদের 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা সম্পর্কে তেহরানকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছে।

শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা মূলত থমকে গেছে যখন ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমান ও পাকিস্তান সফর শেষে সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ক্রেমলিনের পূর্ণ সমর্থন লাভ করেন।


এদিকে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ভৌত সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা কাটবে না। গত কয়েক দিনে মার্কিন অবরোধের মুখে অন্তত ছয়টি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতো, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মাত্র ৭টি জাহাজ চলাচল করেছে, যার একটিতেও বিশ্ববাজারের জন্য কোনো তেল ছিল না।

আরাগচি রাশিয়ায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প এখন আলোচনার পথ খুঁজছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবে ধাপে ধাপে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলা বন্ধ এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরু না করার গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া এবং হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সবশেষে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ইরানের অধিকারের স্বীকৃতি সাপেক্ষে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

X 48
নিজ দেশে জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরমাণু ইস্যু নিয়ে শুরুতেই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স