আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে!

ৱইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের সামরিক সদর দপ্তর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তেহরানের মতে, ওয়াশিংটন কোনো চুক্তি বা আন্তর্জাতিক সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় এবং বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটই বলে দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পথেই হাঁটছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মনে করছে যুদ্ধ শুরুর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তারা যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছে। কিন্তু, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সেই নমনীয়তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তেহরান এখন বিশ্বাস করে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতের অবসান চায় না, বরং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


এই পরিস্থিতিতে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের উপকূলীয় জলসীমায় নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে। ইরান এই অঞ্চলটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির উৎস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা পরোক্ষভাবে মার্কিন নৌ-চলাচলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই দেশবাসীকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ এবং বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি যে চাপের মুখে পড়েছে, তা মোকাবিলা করতেই এই ডাক দেওয়া হয়েছে। শত্রুদের হতাশ করতে জনগণকে দৃঢ় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সবশেষ শান্তি প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ইরান এমন সব শর্ত জুড়ে দিয়েছে যা মেনে নেয়া অসম্ভব। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তাড়াহুড়ো করে বা দুর্বল কোনো চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করা ঠিক হবে না। তিনি এমন কোনো সমাধানের বিপক্ষে যা এখনকার মতো শান্তি আনলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আবারও সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, উভয় পক্ষের অনড় অবস্থান এবং একে অপরের প্রতি আস্থার অভাব মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও একটি বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে নাকি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হবে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।