ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ সংকীর্ণ হয়ে আসছে: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ সংকীর্ণ হয়ে আসছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির গোয়েন্দা ইউনিটের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন যেখানে তাকে হয় একটি ‘অসম্ভব সামরিক অভিযান’ বেছে নিতে হবে, অথবা ইরানের সাথে একটি ‘খারাপ চুক্তিতে’ সই করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় আইআরজিসি জানিয়েছে, তেহরান ইতিমধ্যে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শেষ করার জন্য একটি সময়সীমা বা ডেডলাইন নির্ধারণ করে দিয়েছে। যদিও সেই নির্দিষ্ট তারিখটি প্রকাশ করা হয়নি।


সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, চীন, রাশিয়া এবং এমনকি ইউরোপের দেশগুলোর পক্ষ থেকেও ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সুর পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাদের মতে, বৈশ্বিক এই রাজনৈতিক মেরুকরণ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার এবং ইরানের নীতি নির্ধারণী পরিষদের (এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল) সচিব মোহসেন রেজায়ি এক কড়া বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ সৃষ্টিকারী মার্কিন বাহিনীকে ‘জলদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু যাদের কাছে বিমানবাহী রণতরী রয়েছে।


রেজায়ি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জলদস্যুদের মোকাবিলা করার ক্ষমতা আমাদের কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়ার ক্ষমতার চেয়ে কম নয়। তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে জানান, হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং সেনাদের জন্য ‘কবরস্থানে’ পরিণত করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত। গত মাসে ইসফাহানে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ই বিমানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, যেভাবে মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ ইরানে পড়ে আছে, রণতরীগুলোর পরিণতিও তেমনটাই হবে।

ইরানি কর্মকর্তাদের এই অনমনীয় অবস্থান এবং সরাসরি সামরিক হুমকির ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ওয়াশিংটন যদি ইরানের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প প্রশাসন এখন কূটনৈতিক পথে হাঁটবে নাকি সামরিক শক্তির প্রদর্শন করবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা।

সূত্র: আল জাজিরা-ফারস নিউজ