ইরান-আমেরিকার লড়াইয়ের মাঝে এবার ইউরোপীয় এন্ট্রি!

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল সমুদ্রে এবার নামল ইউরোপীয় শক্তি। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ‘নৌ-যুদ্ধ’ যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের দাপট দেখাতে রণতরী পাঠাল ফ্রান্স। দেশটি বলছে, হরমুজ প্রণালীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলতে পারে না।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দড়ি টানাটানি যখন থামছেই না, তখন আর বসে থাকতে পারল না ইউরোপ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন আর অর্থনীতির মন্দা রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল ফ্রান্স। বুধবার ফরাসি সেনাবাহিনী তাদের গর্বের এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গল’-কে লোহিত সাগরের উদ্দেশ্যে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট, হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

French aircraft carrier Charles De Gaulle
ফরাসি প্রেসিডেন্সির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের পারস্পরিক অবরোধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যে পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়ছে, তা আর মুখ বুজে সহ্য করা সম্ভব নয়। গত সোমবারও হরমুজের সংকীর্ণ জলপথে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে, যা চার সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স মনে করছে, শুধু আলোচনা নয়, সাগরে নিজেদের পেশিশক্তি দেখানোও এখন জরুরি।

ফ্রান্স এবং ব্রিটেন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি গোপন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এই পরিকল্পনার মূল কথা হলো, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের দায়িত্ব নেবে একটি বহুজাতিক বাহিনী। ফরাসি বিমানবাহী রণতরীর সাথে ইতিমধ্যে ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের যুদ্ধজাহাজও যোগ দিয়েছে। প্রায় ডজনখানেক দেশ এই মিশনে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ফ্রান্সের প্রস্তাবটি বেশ ‘রসালো’- ইরানকে তাদের জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে, বিনিময়ে তারা পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে আলোচনায় বসবে। অন্যদিকে, আমেরিকা তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেবে।

French aircraft carrier Charles De Gaulle
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চটেছিলেন কারণ তারা তাঁর নৌ-অবরোধে সরাসরি সমর্থন দেয়নি। এখন রণতরী পাঠিয়ে ফ্রান্স হয়তো ট্রাম্পের সেই ক্ষোভ কিছুটা প্রশমনের চেষ্টা করছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, ইরান কেন এই প্রস্তাবে রাজি হবে? কারণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণই তো তাদের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস।

এতদিন এই যুদ্ধে ইউরোপ ছিল শুধু দর্শক। কিন্তু তেলের দাম যখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, তখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় রণতরী নামানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই তাদের সামনে। লোহিত সাগরের দিকে এগিয়ে যাওয়া ‘শার্ল দ্য গল’ এখন বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে, আমেরিকা বা ইরান নয়, হরমুজের দখল নিতে এখন তৈরি ইউরোপও।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স