যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন টানটান উত্তেজনা, তখন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন বোমা ফাটিয়েছে সিবিএস নিউজ। জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন হামলা থেকে নিজেদের বিমান ও সামরিক সম্পদ রক্ষা করতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করছে ইরান। একাধারে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিনয় করলেও তলে তলে তেহরানকে পাকিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান পাকিস্তানের 'নূর খান' বিমানঘাঁটিতে বেশ কিছু বিমান পাঠিয়ে দেয়। যার মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের বিমান বাহিনীর একটি আরসি-১৩০ গোয়েন্দা বিমান। এটি মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি রিকনাসেন্স বিমান।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানেও একটি ইরানি বেসামরিক বিমান পার্ক করে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর 'মাহান এয়ার'-এর একটি বিমান কাবুলে অবতরণ করে। পরবর্তীতে পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে বিমানটিকে নিরাপদ রাখতে ইরান সীমান্তের কাছে হেরাত বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার আমূল পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। ইসরাইল নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের আগের কিছু বক্তব্যের পর তারা ইরানকে সাহায্য করছে শুনলে আমি অবাক হব না।
এই ঘটনায় পাকিস্তানের ওপর ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে পাকিস্তান এবং আফগান তালেবান উভয় পক্ষই এই প্রতিবেদনকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা যুক্তি দিয়ে বলেন, নূর খান বিমানঘাঁটি শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। সেখানে যদি বিদেশি বিমানের বড় কোনো বহর রাখা হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে গোপন রাখা মোটেও সম্ভব নয়।
একই সুরে কথা বলেছে তালেবানও। প্রধান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, কোনো ইরানি বিমান আফগানিস্তানে পার্ক করা নেই। তিনি বিদ্রূপের সুরে বলেন, না, এটা সত্যি নয়। ইরানের এই ধরণের কাজ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
একদিকে তেহরানকে বাঁচানোর এই ‘গোপন’ তৎপরতা, অন্যদিকে প্রকাশ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা,পাকিস্তান এখন এক জটিল ভারসাম্য রক্ষার খেলায় লিপ্ত। ওয়াশিংটনের চোখরাঙানি আর তেহরানের সাথে ঘনিষ্ঠতা, এই দুইয়ের চাপে ইসলামাবাদের কূটনীতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।