তেহরানে আসিম মুনির-আরাগচি ম্যারাথন বৈঠক

পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা নিরসন এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে তেহরান সফর করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শুক্রবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ম্যারাথন বৈঠকে মিলিত হন তিনি। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ কর্তারা মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চলমান মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছালে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দর মোমেনি। এই স্বাগত অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলমান শান্তি মধ্যস্থতার অংশ হিসেবেই সেনাপ্রধানের এই বিশেষ ইরান সফর।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সমর নেতা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিহীন যুদ্ধ শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও দমে যায়নি; তারা দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ১০০ দফায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যাতে প্রতিপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

Asim Munir in Tehran
পরবর্তীতে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করে কোনো স্থায়ী চুক্তি ছাড়াই তেহরানে ফিরে আসে ইরানি প্রতিনিধিদল।

সাময়িক সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার করছে, ততক্ষণ তারা কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না।

তেহরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, এই নৌ-অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ তারা কোনোভাবেই বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করবে না। এমন এক জটিল ও অচলাবস্থার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের এই তেহরান সফর এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলা বৈঠকটি ওই অঞ্চলে যুদ্ধ এড়ানোর শেষ মুহূর্তের বড় কূটনৈতিক চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: প্রেস টিভি