আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধবিরতির সমীকরণ মেলাতে এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে এবার ইরানের রাজধানী তেহরানে হাজির হলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। ওয়াশিংটনের বিশেষ প্রতিনিধি বা দূত হিসেবে এক নতুন দফা লোচনার উদ্দেশ্য নিয়ে শনিবার তিনি তেহরানে পৌঁছান। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এমন হাই-প্রোফাইল সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা 'তাসনিম নিউজ' জানিয়েছে, তেহরান সফরকালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হবেন। যেখানে যুদ্ধাবসান এবং হরমুজ প্রণালীর অবরুদ্ধ দশা কাটানোর বিষয়ে আমেরিকার দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে, ইরানের আরেকটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম 'ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি' এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি শুধু আমেরিকার বার্তা নিয়েই আসেননি, বরং তাঁর সাথে রয়েছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরের একটি বিশেষ চিঠি।
এই গোপন চিঠিটি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন হামলায় পিতা আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর গত মার্চে মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাভার গ্রহণ করলেও, নিরাপত্তার কারণে বা গুরুতর চোটের গুঞ্জনে তিনি এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে আসেননি। এমন এক অন্তরালবাসী নেতার কাছে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের চিঠি পৌঁছানোর চেষ্টা পর্দার আড়ালের কূটনীতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার এই যুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তান নিজেকে এই অঞ্চলের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু ওয়াশিংটন এবং তেহরান, উভয় পক্ষের সাথেই ইসলামাবাদের একটি কৌশলগত ও কূটনৈতিক সুসম্পর্ক রয়েছে, তাই এই দুই চিরবৈরীর যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানই এখন একমাত্র এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই তেহরান মিশন মধ্যপ্রাচ্যের বারুদে ভেজা আকাশে শান্তির কোনো নতুন বার্তা বয়ে আনতে পারে কিনা!
তথ্যসূত্র: সিএনএন