ইরানের ওপর নতুন মার্কিন হামলা বাতিল করলেন ট্রাম্প

অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের বারুদে ভেজা আকাশে কিছুটা শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ আর অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ধস ঠেকাতে ইরানের ওপর নতুন করে পরিকল্পিত বিমান হামলা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার, তেহরানের সাথে সর্বোচ্চ পর্যায়ের শান্তি আলোচনায় অভূতপূর্ব অগ্রগতির দোহাই দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও ইতিবাচক ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে কমতে শুরু করেছে এবং আমেরিকার শেয়ারবাজার এক ধাক্কায় বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

Iran War 04
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে নিশ্চিত করেb, তেহরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির মূল ধারণা এবং খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই অনুমোদন দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই ঐতিহাসিক সমঝোতা প্রস্তাবটি ইরানের সর্বোচ্চ স্তরের নেতৃত্ব (আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি) যেমন মেনে নিয়েছে, তেমনই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী দেশ, বিশেষ করে ইসরাইল, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও এতে পূর্ণ সম্মতি জানিয়েছে।

বহাল থাকছে নৌ-অবরোধ: ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোও রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে, গত কয়েকদিন ধরে পর্দার আড়ালে চলা কূটনৈতিক আলোচনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে যুদ্ধবিরতির আবহ তৈরি হলেও এখনই ইরানকে পুরোপুরি ছাড় দিচ্ছেন না ট্রাম্প।

Iran War 02
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই চুক্তি বা লেনদেন আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ বলবৎ থাকবে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকেই মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের সব বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছে। খুব শিগগিরই এই চুক্তি সইয়ের সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

পর্দার আড়ালে এত দ্রুত আলোচনা এগোলেও, ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য চুক্তি তাঁর নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থীদের কতটা সন্তুষ্ট করতে পারবে, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে। ট্রাম্পের বিরোধীদের দাবি, যে কোনো চুক্তির মূল শর্ত হতে হবে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ চিরতরে বন্ধ করা।

Iran War 03
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মনে এখন একটি বড় ভয় কাজ করছে। তিনি ভাবছেন, তাঁর এই চুক্তিকে যেন ওবামা আমলের ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির সাথে তুলনা করা না হয়। কারণ, ওবামার সেই চুক্তিকে "অত্যন্ত দুর্বল ও উদার" বলে তীব্র সমালোচনা করে ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সেখান থেকে বের করে এনেছিলেন ট্রাম্প নিজেই।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। গত সাড়ে তিন মাসে এই যুদ্ধে প্রধানত ইরান এবং লেবাননের হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে মার্কিনিদের পকেট কাটছিল।

এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই নতুন ‘ডিল’ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আনে, নাকি এটি কেবলই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পার করার জন্য ট্রাম্পের সাময়িক কোনো চাল!

তথ্যসূত্র: রয়টার্স