মিশরের এলএনজি বন্দরে রহস্যময় ড্রোন হামলা!

ভূমধ্যসাগরের তীরে মিশরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হাব 'দামিয়েত্তা' বন্দরে জোড়া জাহাজে রহস্যময় ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে! মিশরের মন্ত্রিসভা নিশ্চিত করেছে, বুধবারের এই আগুনে দুটি বিশালাকার গ্যাস ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনায় এখনও কেউ দায় স্বীকার না করলেও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে সন্দেহ স্বাভাবিকভাবেই গড়াচ্ছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দিকে।

Egypt Drone 03
উপকূলীয় সূত্র জানায়, একটি অজ্ঞাত ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে মার্কিন মালিকানাধীন ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ভেসেল ‘এনারগস উইন্টার’-এ। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে পাশে থাকা গ্রিক মালিকানাধীন এলএনজি ট্যাংকার ‘গ্যাসবলগ সালেম’-এ।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দর থেকে কুচকুচে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে এবং ফায়ার সার্ভিস ও টাগবোটগুলো থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

মিশরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে বৃহস্পতিবার থেকেই বন্দর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে ট্র্যাকিং ডাটা বলছে, আক্রমণের পর দুটি জাহাজই নিরাপদ দূরত্বে সাগরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Egypt Drone 01
যদিও ড্রোনটি কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়, তবে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে মার্কিন-ইসরাইল বনাম ইরান যুদ্ধের জের ধরে জ্বালানি অবকাঠামোতে যেসব ধারাবাহিক হামলা চলছে, এটি তারই নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন মিত্র হিসেবে পরিচিত মিশরে এবারই প্রথম সরাসরি এমন বড় ধরনের আঘাতের ঘটনা ঘটল।

ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁকে ব্রিফ করা হয়েছে। ইঙ্গিতে ইরানের দিকে আঙুল তুলে ট্রাম্প বলেন, ওদের সেই পুরোনো বদভ্যাস! তবে এগুলো খুব শিগগিরই সোজা করে দেওয়া হবে।

হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরাকে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর যৌথ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। তাদের দাবি, ইরানের রিভোলেশনরি গার্ডের নির্দেশনায় এই গোষ্ঠীগুলো সৌদি তেল স্থাপনায় অন্তত ৩০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

Egypt Drone 02
পাল্টা জবাবে ওয়াশিংটন ইরাকে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ জন শিয়া মিলিশিয়াকে হত্যা করে, যাকে ইরান চরম বিপজ্জনক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর পরপরই জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে বুধবার রাতে ইরানে সর্বাত্মক হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সব মিলিয়ে ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর, পুরো অঞ্চল জুড়ে যেন বারুদের গন্ধ ভাসছে!

তথ্যসূত্র: বিবিসি