প্রয়োজনে আরও ধ্বংসাত্মক হবে ইরান: আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান সামরিক সংঘাত ও টানটান উত্তেজনার মধ্যেই রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির রাজনৈতিক বিষয়কমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি রোববার এক সাক্ষাৎকারে সোজা ভাষায় জানিয়েছেন, ইরান এখন পর্যন্ত আত্মরক্ষা ও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকলেও শত্রুভাবাপন্ন আগ্রাসন মোকাবিলায় সামনে এটি ‘আক্রমণাত্মক রূপ’ নিতে পারে। তেরহরান আর চুপ করে বসে থাকবে না।

Iran War 09
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল জাভানি বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী নতুন রূপান্তরমুখী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। দেশের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শত্রুর হুমকি নস্যাৎ করতে সঠিক সময়ে যে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, শত্রুপক্ষই এই যুদ্ধের সূচনা করেছে, ফলে ইরানের জবাব এতদিন প্রতিরক্ষামূলক হলেও ভবিষ্যতেও যে তা শুধু প্রতিরক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, জুন মাসে সই হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত ৬০ দিনের সময়সীমাকে এখন সম্পূর্ণ ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে ঘোষণা করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Iran War 01
সোমবারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা’কে জানান, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এই ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছিল দুপক্ষের মধ্যে পরমাণু ইস্যু এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনা শুরুর জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র শর্ত লঙ্ঘন করায় সেই আলোচনা আদৌ শুরুই হতে পারেনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেহেতু আলোচনা শুরুই হয়নি, তাই এই ৬০ দিনের সময়সীমার আর কোনো কার্যকারিতা নেই।

এদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ওমানের সাথে আলোচনার বিষয়ে ইসমাইল বাঘাই জানান, দুই দেশ নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে একটি 'ন্যাভিগেশন ম্যাপ'-এ সম্মত হয়েছে, তবে চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ এখনো চলছে।

Iran War 04
১৯৮০-১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের বন্দিমুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ঐতিহাসিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয় এবং ইরানি জনগণের জাতীয় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

একই সময়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, ইরান ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছে। শত্রুভাবাপন্ন জোটের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকটি ইরানের জন্য একটি ‘গৌরব ও বিজয়ের দলিল’, যা কূটনৈতিক ময়দানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

Iran War 03
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘মেজর কমব্যাট অপারেশনস’-এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক হামলা ও কূটনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কৌশলগত প্রণালী হরমুজ।

তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ-আল জাজিরা-রয়টার্স