মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে ইরাকে দুই দশক ধরে অবস্থান করা অবশিষ্ট মার্কিন ঘাটিগুলো থেকে সেনাদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার দিনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে টানটান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠিক এই দিনটিকে নিজেদের প্রতিরোধের অক্ষের বড় বিজয় হিসেবে উদ্যাপন করছে ইরান।
অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন জনগণের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত ২৬ পৃষ্ঠার এক চিঠিতে আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেশনাল নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা মার্কিন জনগণকে ক্ষমতার মসনদ থেকে হঠকারী ও যুদ্ধবাজ রাজনীতিবিদদের অপসারণের আকুল আর্জি জানিয়েছে।

আসন্ন কংগ্রেশনাল নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এই চিঠি মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় ফেলেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান যুদ্ধের নীতিতে দেশের সিংহভাগ নাগরিকই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন ইরান খুব শীঘ্রই নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে, তবুও বাস্তবতা বলছে, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখা ও মার্কিন মিত্রদের ওপর ড্রোন হামলার মাধ্যমে তেহরান এখনও তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরোধ বজায় রেখেছে।

পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে কাতার। দোহার পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রসূত পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা যায়।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরান যে সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করলেও কাতার এখনও উভয় পক্ষকে একটি টেকসই সমঝোতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্পের অনড় মনোভাব এবং ইরানের সরকার উৎখাতসহ পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের প্রকাশ্য ঘোষণার কারণে চলমান এই বৈশ্বিক সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
