ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার ষড়যন্ত্র চলছে!

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে বলে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন কংগ্রেসউইম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিন। রোববার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতিগত সীমা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে আনছে।

কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না দিয়েই মার্জোরি টেলর গ্রিন লেখেন, আমি অনুমান থেকে বলছি না, আমি নিশ্চিতভাবে জেনেই বলছি। এটি পুরোপুরি শয়তানি ছাড়া আর কিছুই নয়।

Marjorie Taylor Greene 04
গ্রিন অভিযোগ করেন, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এমন কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। তা সত্ত্বেও নিজস্ব গোয়েন্দা মূল্যায়নকে আড়ালে ঠেলে দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলি দাবির ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়িয়ে চলেছে। গ্রিন সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের চরম সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিসরে ‘পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ’ ডেকে আনতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক মহামন্দার জন্ম দেবে।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো বিদেশি যুদ্ধে জড়াবেন না। কিন্তু বর্তমান নীতির ফলে আমেরিকার নিরাপত্তা ধ্বংসের মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু অজেয় নয়। সময় থাকতে আমাদের এই উন্মাদনা বন্ধ করতে হবে।

Marjorie Taylor Greene 02
সাবেক এই প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিকের করা গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তন করেছে বা ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন কোনো দাপ্তরিক ইঙ্গিত বা প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সামরিক হামলা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মারাত্মক উত্তেজনা চলছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে চাপ অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে ইরানি সামরিক বাহিনীও মার্কিন সেনাদের ওপর সরাসরি আক্রমণ ও বন্দির ওপর পুরস্কার ঘোষণার মতো পাল্টা হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

Marjorie Taylor Greene 06
ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও গ্রিন ইতোপূর্বেও ২০২৫ সালের জুনে ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার পর প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর সাম্প্রতিক এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্য ও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তুমুল শোরগোল তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি-ফার্স্টপোস্ট