হরমুজকে মার্কিন ভূখন্ড দেখিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ!

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এতদিন ধরে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর একক সার্বভৌমত্ব দাবি করার পাশাপাশি ট্রাম্প জানান, প্রণালীতে ইরানের পুঁতে রাখা সব সামুদ্রিক মাইন অপসারিত বা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং ভবিষ্যতে আলোচনার কোনো সম্ভাবনাও নেই। আমাদের নৌ অবরোধ পূর্ণশক্তিতে বহাল রয়েছে। হরমুজ প্রণালী এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও সচল। সেখানকার সব সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে নেয়া হয়েছে বা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

Iran War 03
হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে তেহরান:  
ছয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধে জ্বালানি পরিবহনের কৌশলগত প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প ইতিপূর্বেও একাধিক দাবি করলেও, এবার বাস্তবচিত্র তাঁর বক্তব্যের অনেকটাই কাছাকাছি। সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে সামুদ্রিক পরিবহনের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানানো হয়, শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে সরবরাহকৃত অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, তার ওপর তেহরান দ্রুত নিজেদের কর্তৃত্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে কড়া নৌ অবরোধ জারি করে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'মেরিনট্রাফিক'-এর তথ্যমতে, গত সপ্তাহে অন্তত ৯৫টি এবং তার আগের সপ্তাহে ১১৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান 'কপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ অতিক্রমকারী প্রায় ৮০ শতাংশ জাহাজই জাতিসংঘ অনুমোদিত ‘ওমান রুট’ ব্যবহার করেছে- যার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল ইরান।

ওমানের উত্তর উপকূল ব্যবহার করে যেসব জাহাজ বিকল্প পথ ধরেছে, সেগুলোর ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়ে প্রভাব বজায় রাখতে চেয়েছিল ইরান। তবে চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নিরাপত্তার আশ্বাসে জাহাজগুলো এখন ইরানের নির্দেশ উপেক্ষা করে চলাচল বাড়িয়েছে।

Strait of Hormuz
‘ডার্ক শিপিং’
ও জ্বালানি সরবরাহে গতি: শিপিং ডেটা অনুযায়ী, বিকল্প রুটে চলাচল বাড়ায় প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায়ের যে সুযোগ তেহরানের সামনে এসেছিল, তাও হাতছাড়া হচ্ছে। পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ড্যান পিকারিং জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশই ইরানকে কোনো টোল দিতে ইচ্ছুক নয়, তাই ওমান রুট ব্যবহার করাই তাদের কাছে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে।

তাছাড়া, সৌদি আরব, কুয়েত ও আমিরাতের মতো বড় তেল উৎপাদক দেশগুলো বিশালাকার ট্যাঙ্কার চার্টার করে ওমান উপসাগরের নিরাপদ স্থানে অন্য ট্যাঙ্কারে তেল স্থানান্তর করছে। হামলা এড়াতে এই জাহাজগুলো প্রায়ই টানা কয়েক সপ্তাহ জিপিএস ট্র্যান্সপন্ডার বন্ধ রেখে ‘ডার্ক শিপিং’ কৌশলে চলাচল করছে।

মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারিতে উঠে এসেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে প্রচলিত ধারণার চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণ তেল পরিবাহিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ও বিকল্প পথ দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে—যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের দৈনিক ২ কোটি ব্যারেলের বেশ কাছাকাছি।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি