উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। একই সাথে ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে শুধু অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে নয়, বরং সরাসরি ‘যুদ্ধের শামিল’ ঘোষণা করেছে তেহরান। ইরানের ভাষায়, যে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে যুদ্ধ হিসাবেই দেখবে তেহরান।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মার্কিন এই অর্থনৈতিক হামলায় কোনো দেশ অংশ নিলে কিংবা সমর্থন যোগালে ইরান সেটিকে শত্রুতাপূর্ণ ও যুদ্ধের পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করবে; এবং এজন্য যথাযথ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

Iran War 04
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মহসেন রেজাই লেখেন, যদি এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তবে শুধু হরমুজ প্রণালীই নয়, পারস্য উপসাগরের কোথাও থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে রপ্তানি করা যাবে না।

টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের পুনরুল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্পের এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় শরিক হওয়া যে কোনো রাষ্ট্রকে ইরান নিজেদের ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করবে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সাপ্লাই চেইনের জন্য স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালী আগের মতোই বন্ধ থাকবে। গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র আগে পূরণ না করা পর্যন্ত এটি পুনরায় খোলার কোনো সুযোগ নেই।

Iran War 01
নিষেধাজ্ঞা হলো নতুন রূপের যুদ্ধ:
আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক গবেষক মহসেন ফারখানি আল জাজিরাকে দেয়া বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি সরাসরি যুদ্ধ। আর তাই এই আক্রমণের বিপরীতে ইরানের দিক থেকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ইউএই বা অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ মার্কিন চাপে বাণিজ্য কমালেও চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান কিংবা ইরাক ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না বলে মনে করেন তিনি।

তেহরানের কৌশলগত অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ফারখানি জানান, ইরান এ পর্যন্ত বেশ সংযম দেখিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক প্রস্তাবনার ভেতরে থেকেই প্রতিটি পদক্ষেপ বেছে নিয়েছে। তবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহস্রাব্দের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেও আঞ্চলিক দেশগুলো যদি ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সেই রাষ্ট্রগুলোকেই নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-প্রেস টিভি-ইরনা নিউজ