আমেরিকা কর্তৃক ইরানের ওপর নতুন করে সর্বাত্মক চাপ ও সম্প্রসারিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তেহরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করার হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির অর্থনীতি বিষয় মন্ত্রী, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং পার্লামেন্টের স্পিকারসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা যৌথভাবে মার্কিন এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং আমেরিকা বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন।
ইরানের অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানিক জাদেহ জানিয়েছেন, তেহরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসী হামলা চালাতে চায়, কিন্তু আমাদেরও নিজস্ব কৌশল ও সামর্থ্য রয়েছে। আমরা জানি কীভাবে এই খেলা খেলতে হয়।
আইআরজিসি’র মুখপাত্র সরদার মহেবি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করাটাই সামরিক ময়দানে আমেরিকার পরাজয়ের একটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ স্বীকৃতি। তিনি বলেন, সামরিক ময়দানে জয়ী হলে আপনাদের নতুন করে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করতে হতো না।
নতুন এই অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় ইরানের সরকার ও আইআরজিসি’র মধ্যকার যৌথ সহযোগিতাকেই মূল চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের জাতীয় ‘সরকার সপ্তাহ’ উদযাপন উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, বহুমুখী নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে জাতীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সরকার ও আইআরজিসির যৌথ সমন্বয়ই সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিবৃতিতে বর্তমান অর্থনৈতিক সংঘাতকে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য রাখা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিকে সম্পূর্ণ ‘ফাঁকা বুলি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদাররা এসব মার্কিন হুমকিকে সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে গণ্য করেছে এবং তারা তা মানবে না বলে তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে।
গালিবাফ আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের ওপর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য না করার শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক সক্ষমতা বা অবস্থান ওয়াশিংটনের নেই।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-ইরনা