ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দেখা গেল মধ্যপ্রাচ্যের এক নতুন ও চোখধাঁধানো কূটনৈতিক সমীকরণ। চিরশত্রুতার বরফ গলিয়ে সম্পর্কের ‘নতুন পাতা’ উল্টানোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। চরম সামরিক উত্তেজনার আবহেই দিল্লিতে দুই নেতার এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠককে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত উষ্ণ কণ্ঠে নিশ্চিত করেন, আরব আমিরাতের সঙ্গে অতীত ভুলে একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের এই মাখামাখিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টই ঝাঁজালো গলায় জানিয়েছেন, এসব নিয়ে তাঁর নাকি বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই!
উপসাগরীয় দেশগুলো আর ইরানের মধ্যে ওমানে হতে যাওয়া আসন্ন সুরক্ষা বিষয়ক বৈঠকের ঠিক আগেই এই সৌহার্দ্যের নাটকীয় বার্তা এল। যে সংযুক্ত আরব আমিরাত মাত্র কিছুদিন আগেই তেহরানের ওপর আর্থিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন ও পাল্টা ইরানি হামলার আগুনে মধ্যপ্রাচ্য ছারখার হওয়ার পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রত্যক্ষ বৈঠক।
বৈঠকে পেজেশকিয়ান আমিরাতকে নিজের ‘ভাই’ বলে আখ্যা দিয়ে অত্যন্ত কৌশলে তোপ দাগেন মার্কিন ঘাঁটির ওপর। তিনি সোজা জানান, অঞ্চলের কোনো দেশের সাথেই তেহরানের কোনো ঝামেলা নেই; সব অনর্থের মূল হলো এই দেশগুলোতে চেপে বসা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো, যেগুলোকে ব্যবহার করে ইরানকে নিশানা করা হচ্ছে। ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশীদের প্রতি তিনি খোলাখুলি আহ্বান জানান, শত্রুপক্ষ যেন কোনোভাবেই তাদের মাটি ব্যবহার করে প্রতিবেশীর ওপর হামলা চালাতে না পারে।
এদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের রক্তচক্ষুকে পাত্তা না দিয়ে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশ যৌথভাবে গৃহীত ‘নিউ দিল্লি ডিক্লেয়ারেশন ২০২৬’-এ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য সুরক্ষার দোহাই দিয়ে সর্বোচ্চ সংযম ও আলোচনার তাগিদ দেয়া হলেও, ট্রাম্পের এমন উদাসীন মন্তব্য বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র-আমিরাত অক্ষের ফাটলকেই আরও যেন প্রকাশ্যে এনে দিল।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি