হরমুজ প্রণালী নিয়ে বৈঠক স্থগিত, সংকটে কূটনীতি

ইরান ও উপসাগরীয় পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার পূর্বনির্ধারিত বৈঠক স্থগিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথে নতুন করে হামলার ঘটনায় অঞ্চলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার তীব্র আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফেই তিন শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা মূল্য প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৬.২০ ডলার ছাড়িয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনে সাম্প্রতিক আক্রমণের পর রিয়াদ সাময়িকভাবে সেটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এই পাইপলাইনটি মূলত হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে তেল পরিবহনের একমাত্র বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

Strait of Hormuz 02
লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে মজুদ থাকা তেলের সাহায্যে সৌদি আরব মাত্র ৫ থেকে ৭ দিন রপ্তানি বজায় রাখতে পারবে; এর পর সরবরাহ দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক তেলের বাজারের প্রায় চার শতাংশ সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়বে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়েও জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং সেখানে একাধিক বাণিজ্য তরী ও ইরানি নৌযানে প্রক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় নৌপথটি চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক এই উত্তেজনার মাঝে ওমানের মধ্যস্থতায় মাস্কাটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক বৈঠক ভেস্তে গেছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন যে, সর্বসম্মত ঐকমত্য তৈরির স্বার্থেই সোমবারের প্রস্তাবিত এই আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে।

Strait of Hormuz
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ওমানের সাথে চুক্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করবে না। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা ব্যক্ত করেছেন যে, চলতি বছরেই বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ সমাপ্ত হবে এবং জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বাব আল-মানদাব প্রণালীর নিকটবর্তী কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখল এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন প্রশাসনের জন্য নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সামরিক সহায়তার জন্য সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটনের সাথে যোগাযোগ করলেও, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ফলে সব মিলিয়ে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে এক গভীর জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের কালো ছায়া ঘনিয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স