যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে 'জানফাদা' নামের এক বিশাল গণ-মোবিলাইজেশন কর্মসূচি জোরদার করেছে ইরান সরকার। ফারসি ভাষায় 'জানফাদা' শব্দের অর্থ 'জীবন উৎসর্গকারী'।
এই কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট অংশ হিসেবে রাজধানী তেহরানে একটি বিশাল সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হয়, যেখানে ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নানা আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের প্রদর্শনী করা হয়েছে। হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও কিশোরদের পরনে সামরিক পোশাক এবং হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মার্চ করতে দেখা গেছে এই মহড়ায়, যা তেহরানের অভ্যন্তরীণ ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে প্রকাশ্যে তুলে ধরেছে।
তেহরানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি সপ্তাহেই ছয় লাখের বেশি মানুষ এই কর্মসূচির অধীনে সক্রিয় সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, এই নিবন্ধনের সংখ্যা খুব দ্রুত ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ইতোমধ্যেই প্রায় এক হাজার সামরিক ও উদ্ধারকারী ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
গত মার্চ মাসে শুরু হওয়া এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীদের আইআরজিসির অধীনস্থ 'বাসিজ' মিলিশিয়া ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সমন্বিত করা। মহড়ায় অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো শত্রুপক্ষকে নিজেদের কঠিন সামরিক অবস্থান জানান দিতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন এবং সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ মেনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে তারা প্রস্তুত।
পেশাদার সামরিক দায়িত্বে অংশগ্রহণের পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা, সামাজিক সেবা, গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়গুলোকেও এই জানফাদা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট নিবন্ধিত নাগরিকদের অন্তত ২৬ শতাংশ সরাসরি সামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্ব বেছে নিয়েছেন।
তবে এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বিপুল সংখ্যক নারী ও কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কর্মসূচির মুখপাত্র জানান, বর্তমানে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কিশোরদের নিবন্ধনের নিয়ম রয়েছে। ভবিষ্যতে ১৫ বছরের কম বয়সীদেরও ধাপে ধাপে এই এই কর্মসূচির আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: মেহর নিউজ-তাসনিম এজেন্সি