যুদ্ধ বন্ধে নিউইয়র্কে মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ

মাসজুড়ে অব্যাহত সামরিক সংঘাত ও একে অপরকে ধূলিসাৎ করে দেয়ার হুমকির পর অবশেষে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হয়েছে পরোক্ষ 'শাটল ডিপ্লোম্যাসি' বা মধ্যস্থতানির্ভর আলোচনা। গত জুলাইয়ে মধ্যবর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধিরা কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন করে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমতির দিকে এবং দীর্ঘ সাত মাসের রক্তক্ষয়ী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত সমাধানের এক নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

Iran War 01
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক না হলেও, তারা কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ও শর্ত বিনিময় করছেন।

নিউইয়র্কে এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হওয়া আলোচনাকে 'অত্যন্ত ফলপ্রসূ' বলে অভিহিত করেছেন এবং উভয় পক্ষ এক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তারা কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের স্পষ্ট শর্ত পৌঁছে দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর মার্কিন আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ করা।

Iran War 01
তবে, এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের প্রচণ্ড চাপ। ট্রাম্প ও ইসরায়েলের শুরু করা 'অপারেশন এপিক ফিউরি' দীর্ঘ সাত মাসে গড়ালে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেবে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। বিশেষ করে ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানির তীব্র সংকট যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন বন্দর অবরোধে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বিপর্যস্ত হলেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ পুরোপুরি না তোলা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে দেবে না। কূটনৈতিক এই নতুন পথ ধরে শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স