আমরা যদি তেল বিক্রি করতে না পারি, তবে এই অঞ্চলের কোনো দেশকেই এক ফোঁটা তেলও বিক্রি করতে দেয়া হবে না, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি মহাবিপর্যয়ের হুমকি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা’র এক প্রতিবেদনে গালিবাফের এই কড়া বার্তা প্রকাশ্যে আসে। চলমান যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি যখন কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, ঠিক তখনই বিশ্ব অর্থনীতির হৃদপিণ্ড জ্বালানি সরবরাহ লাইনে আগুন জ্বালানোর এই বিস্ফোরক ঘোষণা দিল তেহরান।
স্পিকার গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে এই অঞ্চলের কোনো পরিকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় কোনো ধরনের আঘাত হানে, তবে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন অঞ্চলের সবমার্কিন জ্বালানি পরিকাঠামো এবং তাদের সম্পত্তি ইরানের নির্মম প্রতিশোধের মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা এবং প্রণালীটি পুনরায় খোলার জন্য তেহরানের দেয়া সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরই গালিবাফের এই রুদ্রমূর্তি সামনে এলো।
উল্লেখ্য, ইরানের প্রস্তাবটি ছিল জমানো অর্থ ছাড়, তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালী সচল করা হবে।
আমেরিকা বেসামরিক বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের ওপর বাণিজ্য ও আকাশসীমা অবরোধ আরোপের যে পায়তারা করছে, তা প্রত্যাখ্যান করে কালিবাফ বলেন, হুমকি, ভাষণ বা আকাশপথের অবরোধের মুখে ইতিহাস গড়া ইরানি জাতি কখনো পিছু হটবে না।
যে কোনো সামরিক হুমকির জবাব হবে 'অত্যন্ত দ্রুত এবং অনুশোচনাজনক'। এর আগে গত জুনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও তা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দেয়ায় প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই শক্ত করে ধরে রেখেছে ইরান। এমতাবস্থায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে নতুন বার্তা পাঠিয়েছে ইরান।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি