- চারদিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বড় হামলা
- বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত
- সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ঘোষণা
- বাতিল অনেক ফ্লাইট, ভোগান্তি ও আতঙ্ক
- ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, হামলার ঈঙ্গিত
ইরান বনাম সৌদি আরব সংঘাতের নতুন ও বিপজ্জনক ফ্রন্টে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা! মাত্র চারদিনের ব্যবধানে আবারও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ব্যস্ততম ‘কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে’ ভয়াবহ মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে চালানো এই জোড়ো আক্রমণে বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কেঁপে ওঠে পুরো রিয়াদ শহর, আহত হন বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যায় একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স।
সৌদি আরবের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি নিশ্চিত করেছে, হামলার পরপরই বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকার ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিমানবন্দরে অন্তত ২২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কুয়েত, কানাডা ও পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসগুলো নাগরিকদের অবিলম্বে বিমানবন্দরের আশপাশ এড়িয়ে চলার কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা কিং খালিদ বিমানবন্দরের ওপর হামলার খবর গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতিদের হামলায় এক পাইলটসহ তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জবাবে এই ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে বিদ্রোহীরা।
লোহিত সাগরের কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের প্রভাব এখন সরাসরি গিয়ে পড়েছে সৌদির আকাশসীমায়। হুতি সামরিক মুখপাত্র এর আগে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য ‘শেষবারের মতো’ হুমকি দিয়েছিলেন।
ইইউ এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি) সতর্ক করেছে, হুতিদের এই লাগাতার মিসাইল ও ড্রোন হামলার কারণে রিয়াদের মতো গভীরে বেসামরিক বিমান চলাচলের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে।
এদিকে রিয়াদের এই সর্বশেষ হামলার পর হোয়াইট হাউজের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সৌদি জোটে সরাসরি মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি মোটেও ভালো কিছু নয়, আমরা এতে খুশি নই। আমরা মাত্রই সাম্প্রতিক হামলা সম্পর্কে জেনেছি, খুব দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এয়ার ইন্ডিয়া, ফ্লাইদুবাই, লুফথানসা গ্রুপ এবং পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের মতো বিশ্বখ্যাত বিমানসংস্থাগুলো রিয়াদ ও অন্যান্য সৌদি বিমানবন্দর অভিমুখে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। একদিকে হুথিদের একের পর এক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে এই নজিরবিহীন অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় এক যুদ্ধকালীন ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-এপি-এনডিটিভি