দুই দিন আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চালানো নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবারের এই রক্তক্ষয়ী হামলায় ঘটনাস্থলেই ১২ জন প্রাণ হারান এবং মারাত্মকভাবে আহত হন আরও ৩০৯ জন।
আহতদের সবাইকে উদ্ধার করে রিয়াদের একাধিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে রোববার সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সৌদি সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি।
সরকারিভাবে এখনো হাসপাতালগুলোর নাম বা আহতদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষায় বিস্তারিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে হাসপাতাল সূত্রগুলো।
তবে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে রোববার সন্ধ্যায় রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহাদ আল-জালাজেল।
জিএসিএ’র তথ্যমতে, নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং আটজন বিদেশি প্রবাসী। নিহত প্রবাসীদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, জর্ডান এবং সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। হামলা চলাকালীন সাধারণ বিমানযাত্রী এবং বিমানবন্দরের কর্মরত কর্মচারীরাই সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছেন।
এদিকে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী যৌথ জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই হামলাকে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে লঙ্ঘন করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর পরিচালিত এই পৈশাচিক হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যৌথ সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে হুথিদের এই উস্কানিমূলক হামলার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ