লাগাতার হামলায় শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার ও রক্তক্ষয়ী ড্রোন ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছে সৌদি আরব। রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধের মেয়াদ আগামী শনিবার রাত ৯টা (গ্রিনিচ টাইম) পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা বিধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার গভীর রাতে হুথিরা জানায়, তারা রিয়াদ বিমানবন্দরে নতুন করে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণ আগেই সৌদি আরব দাবি করে, তারা রিয়াদমুখী একটি ব্যালাস্টিক মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি সৌদির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত এলাকার একটি কৌশলগত সামরিক বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সংগঠনটি।

Riyad Airport Attack
গত শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার পর থেকে বিমানবন্দরটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। পরদিন রোববার আবারও হামলা চালিয়ে ১ জনকে হত্যা ও অন্তত ১১ জনকে আহত করা হয়।

বেসামরিক অবকাঠামোতে এমন ভয়াবহ ও একটানা আক্রমণকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সেফটি সংস্থা 'অপসগ্রুপ'। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জি সতর্ক করে বলেছেন, সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের নিরাপত্তার ঝুঁকি যেভাবে বেড়েছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ নিয়ে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি পাল্টাতে হবে।

এই নজিরবিহীন অচলাবস্থার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিমান নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এশিয়ার দিকে যাওয়ার জন্য ইউরোপীয় বিমানগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় এয়ার করিডোর সম্পূর্ণ এড়িয়ে মধ্য এশিয়া হয়ে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। এতে ফ্লাইটের দূরত্ব অনেক বেড়ে যাচ্ছে এবং দুবাই বা আবুধাবি হয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

Riyad Airport 2
ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক পরাশক্তি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবে তাদের সব সেবা স্থগিত করেছে। কাতার এয়ারওয়েজ, ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজ (১৯ অক্টোবর পর্যন্ত), ফরাসি-ডাচ এয়ারলাইন ‘এয়ার ফ্র্যান্স-কেএলএম’ (চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত) এবং 'লুফথানসা' তাদের রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। মার্কিন বিমান সংস্থা 'ডেল্টা এয়ার লাইন্স' আগামী ২৩ অক্টোবর রিয়াদে তাদের সার্ভিস শুরু করার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০২৭ সালের মার্চে নিয়ে ঠেকিয়েছে।

হুথিদের এমন বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তেল উৎপাদনে মন্দা এবং নিরাপত্তা সংকটের মুখে চলতি বছরে দেশটির প্রকৃত জিডিপি ৩.৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সাথে চলতি অক্টোবরে রিয়াদে নির্ধারিত ফ্ল্যাগশিপ 'ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ' এবং 'ডাব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেস'-এর মতো বহু বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলো এখন বাতিল হওয়ার পথে, যার ফলে বিশ্ব দরবারে সৌদি আরবের আস্থার সুরক্ষাও বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স