চলতি মাসের শুরুতে অর্থাৎ অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের ওপর সর্বাত্মক ও তীব্র বোমা হামলার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেছিলো ইসরাইল। পরমাণু স্থাপনা এবং সরকারি লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অবকাঠামোও ছিল সেই হামলার তালিকায়।
তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতে জড়াতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কড়া আপত্তির মুখেই শেষ পর্যন্ত হামলাটি আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
তবে আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ৩ নভেম্বরের আগে তিনি ইরানে কোনো নতুন সামরিক অভিযান চালাতে দেবেন না। এমনকি রাজনৈতিক সংকটের মুখে থাকা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্প্রতি সাক্ষাৎকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ইরানের ওপর নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে বেসামরিক অবকাঠামোগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নির্বাচনের আগে সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ থাকলেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু দুজনেই তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে সমূলে উৎখাত করার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে গেছেন। বিশেষ করে বুধবার এক নির্বাচনী জনসভায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের হুমকি চিরতরে বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো দেশটির বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো।
তিনি বলেন, ইরান আমাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল, আমরা তাদের রুখে দিয়েছি; তারা পারমাণবিক বোমা বানাতে চেয়েছিল, আমরা তাও থামিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারা থামছে না। তাই এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো এই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো এবং সেনাবাহিনী ও মোসাদকে সেই নির্দেশই দিয়েছি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও হুংকার দিয়ে বলেছেন, ইরান তাদের আচরণ দ্রুত পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল খুব শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করে দেবে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু প্রকাশিত একটি ভিডিও কথোপকথনে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ডোনাল্ড, আপনি বলেছিলেন আমাদের একটি কাজ শেষ করতে হবে, আর আমরা তা একসঙ্গে শেষ করব।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসন এবং নিজেদের শর্তে তেহরানকে একটি চুক্তিতে বাধ্য করতেই এই সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরেই দুই মিত্র দেশ পুনরায় ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় লিপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি