পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী। সেই সঙ্গে ওই জলসীমায় শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি জ্বালানিবাহী তেল ট্যাঙ্কারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর ‘কার্যকর’ অবরোধের কারণে কোনো ইরানি জাহাজ আর হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারছে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি নৌবাহিনী তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে এবং এই জলপথ দিয়ে বিভিন্ন দেশের যেকোনো ধরনের জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
ইরানি নৌবাহিনী আরও সতর্ক করে বলেছে, প্রণালীতে তাদের প্রণীত বিধিমালা লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে মার্কিন পদক্ষেপের পরিণতি ভোগ করতে হবে। উল্লেখ্য, একটি সমুদ্রমাইনের আঘাতে একটি সুপারট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনার পরই এই কড়া হুঁশিয়ারি আসে। এছাড়া সৌদি আরব উপকূলের অদূরে আরও অন্তত দুটি ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যের 'ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স' (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, শুক্রবার আন্তর্জাতিক সময় ১৯:২২ মিনিটে সৌদি আরবের জুবাইল থেকে ৭৮ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে একটি ছোট নৌকা থেকে একটি তেল ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে রকেট চালিত গ্রেনেড (আরপিজি) ছোড়া হয়।
এই হামলায় জাহাজটির পেছনের বাম দিক (অ্যাফট পোর্ট কোয়ার্টার) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজের সব নাবিক ও ক্রু সুরক্ষিত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। এই বিস্ফোরণে জাহাজের ক্ষয়ের মাত্রা ও পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের ওপর এক কার্যকর জলপথ অবরোধ বজায় রেখেছে, যার ফলে কোনো ইরানি জাহাজই হরমুজ প্রণালী পার হতে পারছে না।
এর আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তদারককারী অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, নৌ-অবরোধের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী ইরানকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন (২,৫০০ কোটি) ডলার সমমূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন (৩৫ কোটি) ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ বা ফ্রিজ করতে সহায়তা করেছে ওয়াশিংটন।
তথূসূত্র: আল জাজিরা-মিডল ইস্ট আই
