পারস্য উপসাগরে এক নজিরবিহীন ও সংবেদনশীল সামরিক অভিযানে অবৈধভাবে তেল পরিবহনে জড়িত চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজে একযোগে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির নৌবাহিনীর এই ঝটিকা অভিযানের পর হামলাভুক্ত চার জাহাজেই ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে আরও তিনটি জাহাজ সামুদ্রিক মাইনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি।
বৃহস্পতিবার দেয়া এক জরুরি বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, গত বুধবার তাদের বিশেষ বাহিনীর চোখ এড়াতে না পেরে পারস্য উপসাগরে ৪টি অবৈধ তেলের জাহাজের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। সঙ্গে সঙ্গেই চালানো হয় একযোগে অভিযান। তবে এটি শুধু একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নয়, আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এর চেয়েও বড় ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানের কৌশলগত বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন নৌ অবরোধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি।
ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা 'ইরনা' জানায়, জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে কূটনীতিক দারজি নিরাপত্তা পরিষদকে অনুরোধ করেছেন যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করা এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সম্পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে এবং তেহরান সেই অধিকার প্রয়োগ করবে।
অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে গুঞ্জন উঠলেও ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে কি না, সেই সম্ভাবনা সোজা নাকচ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অদূর ভবিষ্যতেই এই সংকটের একটি গতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক, দুই দিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চলমান সংকটকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ছোটখাটো সংঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা কোনো আলোচনা করছি না, তবে যে কোনো উপায়েই হোক এর একটা ফয়সালা হবে এবং তা খুব শিগগিরই হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি যোগ করেন, অনেকে মনে করছেন নির্বাচনের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স