তেহরানের কারাগারের শেকলে বন্দি ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কপালে বিচার নাকি তেহরানের রাজপথেই লেখা হয়ে গেল! পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় চলমান অস্থিরতার মাঝেই এবার নজিরবিহীন এক মনস্তাত্ত্বিক চালে বিশ্বকে চমকে দিল ইরান। প্রতীকি এই প্রতিবাদ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিলো।

তেহরানের বিখ্যাত তাজরিশ স্কোয়ারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি জেলখানার শিকে বন্দি দেখিয়ে একটি বিশাল ‘প্রিজন সেল’ স্টাইলের থ্রিডি লাইভ বিলবোর্ড উন্মোচন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা এই ভাস্কর্য-বিলবোর্ডটি দেখতে এখন ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার পথচারী।

Trump Trail 06
Trump Trail 05
কারাগারের গরাদের পেছনে বসা ট্রাম্পের এই প্রতীকী দৃশ্যের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এক তীক্ষ্ম ও ঝাঁজালো স্লোগান, ‘এই দৃশ্য না দেখাটাও একটা অপরাধ!’

তেহরান বিউটিফিকেশন অর্গানাইজেশন আয়োজিত ১৫ দিনব্যাপী এক বিশেষ সাংস্কৃতিক ও প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এই বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছে।

Trump Trail 03
আয়োজকদের দাবি, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া তথাকথিত ‘রমজান যুদ্ধ’-এ শত শত নিরপরাধ ইরানির মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই এককভাবে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনা এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য।

এই প্রতীকী প্রদর্শনীতে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত দুটি নৃশংস হামলার বিচার দাবি করা হয়েছে। ওই দিন দক্ষিণ হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তাইয়েবেহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বিমান হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে সিংহভাগই ছিল নিষ্পাপ খুদে শিক্ষার্থী।

Trump Trail 02
Trump Trail 01
একই দিনে ফার্স প্রদেশের লামের্দ শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী, যেখানে কিশোরীদের ভলিবল টিমের ট্রেনিং চলছিল। সেই হামলায় অন্তত ২১ জন প্রাণ হারান এবং প্রায় ১০০ জন গুরুতর আহত হন।

রক্তাক্ত সেই স্মৃতির ক্ষত বুকে নিয়েই ইরান এখন বিশ্বমঞ্চের পাশাপাশি নিজেদের রাজপথেও ট্রাম্পের রূপক বন্দিদশা ফুটিয়ে তুলে বুঝিয়ে দিচ্ছে, আমেরিকান প্রেসিডেন্টের চাপানো এই যুদ্ধাপরাধ তারা কোনোদিনই ভুলে যাবে না!

তথ্যসূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি