মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার মাত্র ৯৬ ঘণ্টার (৪ দিন) মধ্যে ইরানে এক অভূতপূর্ব ও বৃহৎ সামরিক অভিযান চালাতে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে সোমবার এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রমণ বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সামরিক উপস্থিতি ও যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। তবে এবার আর অতীতে করা সীমিত বা কৌশলগত হামলা- যেমন মিসাইল লঞ্চার, রাডার সিস্টেম বা দ্রুত পুনর্নির্মাণ যোগ্য সামরিক সম্পদ ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান। পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই পরিকল্পনাকে বিশাল এক প্রয়াস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং পেন্টাগনের পরিকল্পনাকারীরা ইরানের বিরুদ্ধে এক বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘদিনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ইরানি বাহিনী এখন মার্কিন কৌশল ও রণনীতি সম্পর্কে বেশ পরিচিত, যা তাদের সমস্ত লক্ষ্যবস্তু একযোগে ধ্বংস করাকে আগের চেয়ে জটিল করে তুলেছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে- হামলা হবে কি হবে না, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো ট্রাম্প ঠিক 'কখন' এই নির্দেশে স্বাক্ষর করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ, বিশেষ করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই এই অভিযানের সবুজ সংকেত আসতে পারে।
যদিও সিএনএন উল্লেখ করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার দিকেই ঝুঁকে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিএনএন সতর্ক করেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে বেশ কয়েকবার চূড়ান্ত মুহূর্তের ঠিক আগে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসার রেকর্ডও রয়েছে।