সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরানের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুথি মিলিশিয়াদের এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১০০ কোটি ডলার) আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্র ও ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার অংশ হিসেবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তেহরান সফর করেছেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজায়ি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে হুথিদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফরই মূলত মক্কা জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এই বৈঠকের পথ উন্মুক্ত করেছিল। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনা শেষে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে চার দেশ নিয়মিত এ ধরনের সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হুতিদের জন্য প্রস্তাবিত এক বিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ নাকি সৌদি মন্ত্রীর নিজস্ব উড়োজাহাজে করে তেহরানে নেয়া হয়েছিলো, যদিও এই দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা না হলেও, কূটনৈতিক সূত্র বলছে যে, তিন বছর আগে হুতিদের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই সহায়তার কথা রয়েছে। ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি খাতের কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা। এর বিনিময়ে হুতিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার কথা ছিল।
তবে হুথিদের অভিযোগ, সৌদি আরব সেই সমঝোতা থেকে সরে এসেছে। অন্যদিকে রিয়াদের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের অবস্থান এখনো পুরোপুরি অনড়। সামরিক ‘ব্ল্যাকমেইল’ বা চাপের মুখে তারা নতুন কোনো যুদ্ধবিরতিতে যাবে না। এছাড়া সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছ থেকে হুতিরা যেসকল ভূখণ্ড জবরদখল করেছে, সেগুলো ফেরত না দেয়া পর্যন্ত হুথিদের কাছে সরাসরি অর্থ হস্তান্তরের প্রবল বিরোধিতা করছে রিয়াদ।
বর্তমান এই বহুমুখী ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যকার এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।